-->

কৃষ্ণভাবনামৃতের অর্থ কী -শ্রীল এ সি ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ

definitions-of-krishna-consciousness যথার্থ জ্ঞানালোক প্রাপ্ত হওয়া
কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ করার অর্থ যথার্থ জ্ঞানালোক প্রাপ্ত হওয়া। মানুষ আজ জড়-জাগতিক জীবন যাপনে ক্লান্ত, বিশেষত পাশ্চাত্য দেশে। কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন এখন পাশ্চাত্য সমাজকে নতুন জীবন দান করছে। 
(কপিল শিক্ষামৃত, শ্লোক-১৪, তাৎপর্য)
জড় গণ্ডিতে পারমার্থিক জীবন
কৃষ্ণভাবনামৃত হচ্ছে সাক্ষাৎ ভক্তিযোগ, আর জ্ঞানযোগ হচ্ছে ভক্তিযোগে অধিষ্ঠিত হওয়ার একটি পন্থাবিশেষ। কৃষ্ণভাবনামৃতের অর্থ হচ্ছে পরম-তত্ত্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের কথা পূর্ণরূপে অবগত হয়ে তাঁর সেবায় কর্ম করা এবং এ ভাবনার পূর্ণতা আসে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সম্বন্ধে পূর্ণজ্ঞান লাভ করার মাধ্যমে। শুদ্ধাত্মা ভগবানের অবিচ্ছেদ্য অংশরূপে তাঁর নিত্যদাস। মায়াকে ভোগ করবার ফলে সে মায়ার সংসর্গে আসে এবং সেটিই তার নানারকম দুঃখকষ্ট ভোগের কারণ। যতক্ষণ সে জড়ের সংসর্গে থাকে, ততক্ষণ সে জাগতিক আবশ্যকতা অনুযায়ী কর্ম করতে বাধ্য হয়। কিন্তু কৃষ্ণভাবনামৃতের বিশেষত্ব হচ্ছে এ যে, প্রকৃতির গ-ির মধ্যে থাকলেও তা মানুষকে পারমার্থিক জীবন দান করে, কারণ জড়জগতে ভক্তির অভ্যাস করলে জীবের চিন্ময়স্বরূপ পুনর্জাগরিত হয়। (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ৫.২৯ তাৎপর্য) কৃষ্ণভাবনামৃতের সিদ্ধান্ত মানুষ তার স্বীয় স্থানে থেকে অথবা তার বৃত্তিকারক কর্তব্যকর্ম সম্পাদন করে ভগবানের বাণী শ্রবণ করতে পারে। কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন এ সিদ্ধান্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং আমরা পৃথিবীর সর্বত্র আমাদের কেন্দ্র স্থাপন করছি, যাতে সকলেই ভগবানের বাণী শ্রবণ করে ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পায়। (শ্রীমদ্ভাগবত-৪/২৪/৬৯, তাৎপর্য) স্থূল ও জড় বস্তুসামগ্রীর সাথে আত্মিক সংযোগ বর্জন জড়জাগতিক দেহটি সদাসর্বদাই ইন্দ্রিয়ভোগ্য সামগ্রীর সাথে সংযোগ রক্ষা করতে থাকে, কারণ অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই দেহটিকে অবশ্যই আহার, নিদ্রা, পান ও বাচন ইত্যাদি করে চলতে হয়, কিন্তু জ্ঞানবান মানুষ যিনি কৃষ্ণভাবনামৃত আস্বাদনের তত্ত্ববিজ্ঞান বোঝেন, তিনিও কখনও ভাবেন না, “এ ইন্দ্রিয়ভোগ্য বস্তু সামগ্রী আমার সম্পদ-সম্পত্তি বলে আমি গ্রহণ করেছি। ঐগুলি আমার ভোগতৃপ্তির জন্যে তৈরি হয়েছে।” তেমনই যদি শরীরটি কোনো চমৎকার কাজ সম্পন্ন করে, তাহলে কোনো কৃষ্ণভাবনাময় মানুষ উল্লসিত হয়ে ওঠে না, কিংবা কোনোভাবে কোনো কাজে শরীর ব্যর্থ হলে সে বিমর্ষ হয় না। অন্যভাবে বলা চলে যে, কৃষ্ণভাবনা বলতে বোঝায় স্থূল ও জড় বস্তু সামগ্রীর সাথে সর্বপ্রকার আত্মিক সংযোগ বর্জন করা। ভগবানের শক্তিসমন্বিত প্রতিভূ মায়ার নির্দেশে সক্রিয় ভগবানের বহিরঙ্গা শক্তিরূপে সেইগুলির ক্রিয়াকলাপ উপলব্ধি করা উচিত। (শ্রীমদ্ভাগবত - ১১/১১/৯, তাৎপর্য ) সক্রিয় কাজকর্ম সেবা মানে কাজকর্ম, কারণ আমরা যখন কারও সেবা করতে থাকি, তখন তো আমরা কাজই করি। যখন আমরা শ্রীকৃষ্ণের সেবা করি, তখন আমরা কৃষ্ণভাবনা প্রচার করছি, কিংবা ভোগ রান্না করছি, বা মন্দির মার্জন করছি, অথবা কৃষ্ণগ্রন্থ বিতরণ করছি, নয়তো তাঁর মহিমা নিয়ে কিছু লিখছি, বা তাঁকে নিবেদনের উদ্দেশ্যে খাদ্যসামগ্রী কিনে আনছি। এমনি নানাভাবেই সেবা করা যায়। শ্রীকৃষ্ণকে সাহায্য করা মানে তাঁর জন্য কাজ করতে থাকা-শুধুমাত্র এক জায়গায় বসে থেকে কৃত্রিমভাবে তাঁর ধ্যান করলেই তাঁর সেবা হয় না। কৃষ্ণভাবনা বলতে বোঝায় কাজকর্ম। আমাদের যা কিছু সম্পদ রয়েছে, তা সবই শ্রীকৃষ্ণের জন্যেই উপযোগ করতে হবে। সেটাই ভক্তিযোগের পদ্ধতি। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের দিয়েছেন একটি মন, সেই মনটিকে আমাদের শ্রীকৃষ্ণের ভাবনায় প্রয়োগ করতে হবে। এ হাতগুলি আমাদের দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলিকে অবশ্যই শ্রীকৃষ্ণের জন্য মন্দির মার্জন কিংবা ভোগ রন্ধনের কাজে আমাদের উপযোগ করতে হবে। আমাদের এ পা-দুখানি দেওয়া হয়েছে, আর সেগুলিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের যেতে হবে মন্দিরে। আমাদের একটি নাক দেওয়া হয়েছে, এবং শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে নিবেদিত পুষ্পরাজির সুবাস আঘ্রাণের জন্যে আমাদের অবশ্যই সেটি কাজে লাগানো উচিত। ভক্তিযোগের পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা এ সমস্ত ইন্দ্রিয়গুলিকে শ্রীকৃষ্ণের সেবায় নিয়োজিত করে থাকি এবং এভাবেই ইন্দ্রিয়গুলি হয়ে ওঠে চিন্ময় ভাবাপন্ন। (যোগসিদ্ধি, অধ্যায়-এক ক্রিয়াযোগ) কৃষ্ণানুশীলনে বিপদ ও ক্লেশ সে যাই হোক, কুন্তীদেবী এ জন্ম-মৃত্যুর আবর্ত সম্পর্কে সচেতন এবং তিনি পুনরায় এ চক্রে পতনের সম্ভাবনা থেকে রেহাই পেতে উদ্বিগ্ন। অপুনর্ভবদর্শনম্ কথার মাধ্যমে তা প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বদা কৃষ্ণকে দেখলে, কৃষ্ণভাবনাময় হওয়া যায়। কৃষ্ণভাবনামৃতের অর্থ হচ্ছে সবরকম কৃষ্ণচিন্তা করা। আমাদের চেতনা কৃষ্ণভাবনায় আবিষ্ট হওয়া উচিত। তাই সদ্গুরু কৃষ্ণানুশীলনপর ভক্তকে বিভিন্ন প্রকার সেবা দান করেন। যেমন, গুরুদেবের নির্দেশে ভক্তকে কৃষ্ণভক্তিমূলক গ্রন্থ বিতরণ ও বিক্রয় করতে হতে পারে। কিন্তু যদি ভক্ত মনে করে যে, গ্রন্থ বিক্রয়ে নিযুক্ত শক্তি মণি-মুক্তাদি মূল্যবান পাথর বিক্রয়ে ব্যবহৃত হওয়া বাঞ্ছনীয়, তাহলে এ রকম ধারণা আদৌ ভাল নয়। সেই ক্ষেত্রে তারা মূল্যবান জহরৎ ব্যবসায়ীর চেয়ে উন্নত কিছু হবে না। কৃষ্ণভাবনা থেকে যাতে আমরা বিপথগামী না হই, সেই বিষয়ে আমাদের খুবই সতর্ক হতে হবে। কৃষ্ণানুশীলন বিপদজনক বা ক্লেশকর হলেও, আমাদের এগুলি সহ্য করা কর্তব্য। এমনকি এসব বিপদকে আমাদের স্বাগত জানানো উচিত এবং কৃষ্ণের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধে আমাদের প্রার্থনা করা উচিত। (কুন্তীদেবীর শিক্ষা, শ্লোক-৮ বিপদঃ সন্তু, তাৎপর্য) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষ্ণভাবনা স্তরবিশেষে শ্রীকৃষ্ণকে ব্রহ্ম, পরমাত্মা ও পরম পুরুষোত্তম ভগবানরূপে উপলব্ধি করা যায়। ভক্তি সহকারে সর্বক্ষণ ভগবানের সেবা করাই হচ্ছে কৃষ্ণভাবনা। কিন্তু নির্বিশেষ ব্রহ্মবাদী জ্ঞানী এবং পরমাত্মার অন্বেষণকারী যোগীরাও আংশিকভাবে কৃষ্ণভাবনাময়, কারণ নির্বিশেষ ব্রহ্ম হচ্ছেন ভগবানের দেহনির্গত রশ্মিচ্ছটা এবং সর্বব্যাপ্ত পরমাত্মা হচ্ছেন ভগবানের আংশিক প্রকাশ। তাই, ভক্তি সহকারে ভগবানের সেবা না করলেও যোগী এবং জ্ঞানীরাও পরোক্ষভাবে কৃষ্ণভাবনাময়। তবে, সরাসরিভাবে কৃষ্ণভাবনাময় ভক্তই হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ যোগী, কারণ তিনি পূর্ণরূপে ব্রহ্ম ও পরমাত্মা তত্ত্ব সম্বন্ধে অবগত। তিনিই পরমতত্ত্বকে পূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। কিন্তু নির্বিশেষবাদী জ্ঞানী ও ধ্যানমগ্ন যোগী পূর্ণরূপে কৃষ্ণভাবনামৃত লাভ করতে পারেননি। ... এই সমস্ত সাধন ও সতর্কতার পূর্ণ পালন তিনিই করতে পারেন, যিনি সর্বতোভাবে কৃষ্ণভাবনাময়; কারণ সর্বতোভাবে কৃষ্ণভাবনাময় হওয়া মানেই সম্পূর্ণরূপে ভগবানের কাছে আত্ম-উৎসর্গ করা। এই ধরনের ত্যাগে পরিগ্রহের কোনো সম্ভাবনা থাকে না। ...কৃষ্ণভাবনাময় ভক্ত যথার্থরূপে জানেন যে, সব কিছুই শ্রীকৃষ্ণের সম্পত্তি। তাই, তিনি কোনো কিছুই নিজের বলে দাবি করেন না। নিজে ভোগ করার জন্য তিনি কোন কিছুর লালসা করেন না। তিনি জানেন, শ্রীকৃষ্ণের সেবার অনুকূলে কোনটি গ্রহণ করা উচিত এবং কোনটি পরিত্যাগ করা উচিত। বিষয় ভোগের প্রতি তিনি সর্বদাই উদাসীন, কারণ তিনি সর্বদাই অপ্রাকৃত স্তরে অধিষ্ঠিত। ভগবদ্ভক্ত ছাড়া আর কারও সঙ্গ করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে তিনি সর্বদাই একাকী। তাই, কৃষ্ণভাবনাময় ভক্তই হচ্ছে পরম যোগী। (ভ.গী. ৬.১০ তাৎপর্য) কৃষ্ণাভিনিবেশ কৃষ্ণভাবনামৃত মানে শ্রীকৃষ্ণের ওপর মনোনিবেশ করা, এবং যখন মন এভাবেই স্থির হয়, তখন পরম পূণ্যের ওপর তা নিবিষ্ট হয়। উদরের যত্ন নিলে এবং পুষ্টিকর আহার গ্রহণ করলে, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গাদির পুষ্টিসাধন হয়, আর তার ফলে আমরা সুস্বাস্থ্য লাভ করি। ঠিক সেভাবেই, গাছের গোঁড়ায় যদি আমরা জল দিই, তাহলে সমস্ত শাখা-প্রশাখা, পত্র-পল্লব, ফল-ফুলের আপনা হতেই রক্ষণাবেক্ষণ হয়। শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে সেবা নিবেদিত হলে, আপনা হতেই অন্য সকলের প্রতি আমাদের সর্বোত্তম সেবা সাধিত হতে থাকে। (শ্রীল প্রভুপাদ, যোগসিদ্ধি, অধ্যায়-পাঁচ; যোগাভ্যাসে নিষ্ঠা ও একাগ্রতা) সর্বদা কৃষ্ণের সাথে বাস কৃষ্ণভাবনা বলতে বোঝায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চিন্ময় গ্রহলোকে তাঁর সাথে সর্বদাই বাস করা। যেহেতু আমরা কৃষ্ণভাবনাময়, তাই ইতিমধ্যেই আমরা তাঁর সঙ্গে বাস করছি। এই জড় দেহটি পরিত্যাগ করে সেখানে যাবার জন্য আমাদের প্রতীক্ষা করতে হবে। যিনি অনন্য মনে কৃষ্ণস্মরণ করতে থাকেন, তাঁর পক্ষে কৃষ্ণকে লাভ করা সহজসাধ্য। তস্যাহংসুলভঃ পার্থ “আমি তাদের কাছে সহজলভ্য।” যিনি কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহণ করেছেন, তাঁর কাছে অতি দুর্লভ বস্তুও সহজলভ্য হয়ে যায়। যেহেতু মানুষ ভক্তিযোগে নিয়োজিত, তাই শ্রীকৃষ্ণ সহজলভ্য হন। যখন শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন, “আমি সহজলভ্য,” তাহলে কৃষ্ণকে লাভের জন্য আমরা অত কঠোর চেষ্টা করি কেন ? আমাদের শুধুমাত্র প্রতিদিন চব্বিশ ঘণ্টা হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে জপ করতে হবে। কোনো বাঁধাধরা নিয়মকানুন কিছু নেই। আমরা রাস্তায় কিংবা ভূগর্ভপথে, আমাদের বাড়িতে কিংবা আমাদের অফিসে জপ করতে পারি। তাতে কোনো খরচ নেই কিংবা কোনো খাজনাও দিতে হয় না। (শ্রীল প্রভুপাদ, যোগসিদ্ধি, অধ্যায়-নয়: মৃত্যুর পরে গন্তব্যস্থল) সর্বদা গোলোক বৃন্দাবনে অবস্থান ভারতবর্ষে আমি বৃন্দাবনে বাস করি এবং এখন আমি আমেরিকায় আছি, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, আমি বৃন্দাবনের বাইরে চলে গেছি। আমি যদি সবসময় কৃষ্ণ-চিন্তা করি, তা হলে সব সময়ে আমি বৃন্দাবনেই আছি। যিনি সর্বদা কৃষ্ণ-চেতনায় অধিষ্ঠিত, তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে সব সময়ে দিব্য ধাম গোলোক বৃন্দাবনে অবস্থান করেন। অর্থাৎ তিনি এই জড় শরীর ত্যাগ করার জন্য শুধু অপেক্ষা করছেন। ‘স্মরতিনিত্যদাঃ’-এর অর্থ হলো নিরবিচ্ছিন্ন স্মরণ বা চিন্তা করা, এবং যিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে শ্রীকৃষ্ণের চিন্তা করেন অর্থাৎ তাঁকে স্মরণ করেন, ভগবান তাঁর নিকট ‘তস্যাহংসুলভঃ’ হন। অর্থাৎ সহজেই সেই ভক্তের নিকট প্রকট বা প্রকাশিত হন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং বলেছেন, একমাত্র ভক্তিযোগের দ্বারাই তিনি সুলভ অর্থাৎ ভক্তিযোগের প্রণালি দ্বারাই তাঁকে সহজে লাভ করা যায়, তাহলে কেন আমরা অন্য কোনো প্রণালি গ্রহণ করব। আমরা চব্বিশ ঘণ্টা কীর্তন করতে পারি। হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। এর জন্য কোনো বিধি-নিয়ম উল্লেখ করা নেই। সবাই সব জায়গায় এই হরিনাম মহামন্ত্র কীর্তন করতে পারে। পথে-ঘাটে, বাসস্থানে, কর্মস্থলে সর্বত্র এই নাম কীর্তন করা যায়। এর জন্য কোনো করও দিতে হয় না বা কিছু ব্যয়ও করতে হয় না। তাহলে কেন এই হরিনামকে আমরা গ্রহণ করব না ? (জন্ম মৃত্যুর পরপারে ২, মৃত্যুতে পরম গতি) কৃষ্ণভাবনায় পাঞ্চরাত্রিক ও ভাগবত বিধি ভগবানের কাছে যাওয়ার দুটি পন্থা রয়েছে। একটি হচ্ছে ভাগবত মার্গ বা শ্রীমদ্ভাগবত প্রদর্শিত মার্গ, এবং অন্যটি হচ্ছে পাঞ্চরাত্রিক বিধি। পাঞ্চরাত্রিক বিধি হচ্ছে মন্দিরে ভগবানের আরাধনা করার বিধি, এবং ভাগবত বিধি হচ্ছে শ্রবণ কীর্তনাদি নবধা ভক্তি। কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন দুটি বিধিকেই যুগপৎ গ্রহণ করেছে, যাতে অনুশীলনকারী ভক্ত ভগবৎ উপলব্ধির পথে অবিচলিতভাবে অগ্রসর হতে পারে। বিদুর কর্তৃক উক্ত এই পাঞ্চরাত্রিক বিধির প্রথম প্রবর্তন করেন দেবর্ষি নারদ। (শ্রীমদ্ভাগবত-৪/১৩/৩, শ্রীল প্রভুপাদকৃত তাৎপর্য)

0 মন্তব্য