রথযাত্রার অপ্রাকৃত মহিমা -বিষ্ণুখণ্ড, পুরুষোত্তম মাহাত্ম্য

রথযাত্রার অপ্রাকৃত মহিমা
স্কন্দ পুরাণ, বিষ্ণুখণ্ড, পুরুষোত্তম মাহাত্ম্য

পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই জগতে দারুব্রহ্ম জগন্নাথ স্বরূপে অবতীর্ণ হয়েছেন যেন যে কেউ তাঁকে দর্শনমাত্রেই জড়জগত থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। শ্রীকৃষ্ণের চিন্ময় স্বরূপ এমনকি অর্জুনের পক্ষেও দর্শন করা সহজসাধ্য ছিল না। তাহলে আমাদের আর কি কথা? তাই জগতের পিতা শ্রীকৃষ্ণ এই জগতের সকলের উদ্ধারের জন্য অনাদিকাল থেকে নীলপর্বতে অবস্থান করছেন। সকল জীবের কল্যাণের উদ্দেশ্যে তিনি সনাতন দারুময় বিগ্রহরূপে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু সমস্যা রয়ে গেল! এজগতে কিছু মানুষ আছে যারা পরমেশ্বর ভগবানের কৃপা গ্রহণ করতে মন্দিরে যেতে চায় না। এছাড়া অনেকেই কোনো কোনো কারণে মন্দিরে যেতে পারে না। তাই পতিতপাবন শ্রীজগন্নাথ ঐসমস্ত ব্যক্তিদেরকেও দর্শন দিতে, মঙ্গল করতে উৎসুক। তাই দারুময় ব্রহ্ম শ্রীজগন্নাথ নিজেই রাস্তায় নেমে তাদের দর্শন দিতে রথযাত্রা লীলা প্রকাশ করতে মনস্থ করলেন। 

তাই যদিও তিনি দারুময় বিগ্রহ, তথাপি যেহেতু তিনি সচ্চিদানন্দময় এবং অচিন্ত্য শক্তিধর, তাই তিনি একদিন সহাস্যবদনে রাজা ইন্দ্রদ্যূম্নকে বললেন,
প্রতিমোবাচ
গু-িচাখ্যাং মহাযাত্রাং প্রকুর্বিথাঃ ক্ষিতিশ্বর।
যস্যাঃ সংকীর্তনাদেব নরঃ পাপাৎ প্রমুচ্যতে ॥
দারুব্রহ্ম শ্রীজগন্নাথ বললেন, হে ইন্দ্রদ্যূম্ন রাজা! তুমি গুণ্ডিচা পর্যন্ত আমার রথযাত্রা আয়োজন করবে। যার নাম উচ্চারণ করলেও মানুষ পাপমুক্ত হয়। (২৯/৩১)

এরপর কৃপা-পারাবার শ্রীজগন্নাথ রথযাত্রার বিধি রাজাকে বর্ণনা করেন। জগতের নাথ জগন্নাথের এই রথযাত্রা অবর্ণনীয় মহিমা দ্বারা পরিপূর্ণ। সেই রথের কিছু মহিমা মহর্ষি জৈমিনি এক সাধুসভায় কীর্তন করেন। নিচে তাঁর বর্ণনা থেকে কিছু অংশ তুলে ধরা হলো।
জৈমিনি উবাচ
অত উর্ধং প্রবক্ষ্যামি মহাবেদী মহোৎসব।
অজ্ঞানতিমিরান্ধোহপি যেন ভাস্বৎপদং ব্রজেৎ ॥
জৈমিনি বললেন, হে মুনিগণ! যার দ্বারা অজ্ঞান-তিমিরান্ধ ব্যক্তিও ভগবৎ পদ লাভ করতে পারে, সেই রথযাত্রার মাহাত্ম্য বর্ণনা করছি। (৩৩/১)
সত্যং সত্যং পুনঃ সত্যং প্রতিজানে দ্বিজোত্তমাঃ
নাতঃ শ্রেয়ঃপ্রদো বিষ্ণোরুৎসবঃ শাস্ত্রসম্মতঃ।
যথা রথবিহারোহয়ং মহাবেদীমহোৎসবঃ ॥
হে মুনিগণ আমি তিনসত্য করে বলছি, মহাবেদী মহোৎসব এই রথযাত্রার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোনো উৎসব নেই।  (৩৩/৫৬)
নাতঃ পরতরো লোকে মহাবেদী-মহোৎসবাৎ।
সর্বপাপহরো যোগো সর্বতীর্থফলপ্রদঃ ॥ 
বস্তুত, ত্রিজগতে রথযাত্রার থেকে সর্বপাপনাশন ও সর্বতীর্থ ভ্রমণের ফল প্রদানকারী অন্য কোনো শ্রেষ্ঠ মহোৎসব নেই। (৩৩/৮৫)
দয়াসিন্ধু জগন্নাথের এই রথযাত্রা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণের জন্য। তাই বলা হয়েছে,
রাজা চতুর্বিধা বর্ণাং অন্যে যে চ পৃথগ্জনা।
দীনা মহান্তশ্চ তদা সমানাস্তত্র তান্তি বৈ ॥ 
ঐ সময়ে রাজা-প্রজা, ব্রাহ্মণাদি চতুর্বর্ণ, ধনী-দরিদ্র, উচ্চ বা নীচজাতীয় ব্যক্তি সকলেই সমানতা প্রাপ্ত হন। (৩৩/৪৮)
পরমব্রহ্ম শ্রীজগন্নাথ রাজা ইন্দ্রদ্যূম্ন এবং রাণী গুণ্ডিচাকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে রথযাত্রা বিষয়ক প্রতিশ্রুতি দেন। যা পূরণার্থে শ্রীজগন্নাথ অদ্যাবধি রথে আরোহন করেন- 
নাতঃপরতরং বিষ্ণোর্যাত্রান্তরমবেক্ষ্যতে।
যত্র স্বয়ং ত্রিলোকেশঃগমনেন কুতুহলাৎ।
মানয়ন্ পূর্বমাজ্ঞাং তাং বর্ষে বর্ষে ব্রজেদসৌ ॥
ত্রিলোকে পরমেশ্বর ভগবান হরির এরকম আর কোনো যাত্রা নেই, যেখানে ভগবান তাঁর পূর্বাজ্ঞা অনুসারে প্রতি বছর গুণ্ডিচা মণ্ডপে পরম কৌতুহল সহকারে যাত্রা করেন। (৩৩/৫৪)

রথযাত্রার মূল তাৎপর্য হচ্ছে, শ্রীকৃষ্ণের তাঁর প্রিয় বৃন্দাবনে তঁর প্রিয় ভক্তদের নিকটে ফিরে যাওয়া। তাই এসময়েই তিনি সর্বাপেক্ষা প্রসন্ন থাকেন। এই কারণে রথের সময় জগন্নাথের কৃপা অনন্তগুণে বর্ধিত হয়। ফলশ্রুতিতে,
দৃষ্ট্বা পাপং নাশয়তি নাত্র কার্যা বিচারণা ॥
রথে ভগবানকে গমন করতে দর্শন করলেও পাপ নাশ হয়।
পশ্যন্তি যে রথে যান্তং দারুব্রহ্ম সনাতনম্।
পদে পদেহশ্বমেধস্য ফলং তেষাং প্রকীর্তিতম্ ॥
যারা দারুব্রহ্ম সনাতন ভগবানকে রথারোহণ করে গমন করতে দেখে, পদে পদে তাদের অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়।(৩৩/৬৫)

রথস্থিতং ব্রজন্তং তং মহাবেদী মহোঃসবে।
বে পশ্যন্তি মুদা ভক্ত্যা বাসন্তেষাং হরেঃ পদেঃ ॥ 
যারা সানন্দে ভক্তিভরে ভগবানকে রথে আরোহন করতে দর্শন করেন, তারা নিঃসন্দেহে ভগবৎপদ প্রাপ্ত হন। (৩৩/৫৫)

এমনকি, যস্য সংকীর্তনাৎ পাপং নশ্যেজ্জন্মশতোদ্ভবম্ ॥(৩৩/৫৮)
এই উৎসবের নাম কীর্তন করলেও লোকের শত শত জন্মের পাতক নাশ হয়।
আর এই রথযাত্রাতেই তিনি সমাগত সকলের প্রতি তাঁর অনন্ত করুণা প্রকাশ করেন।
শ্রীমদঙ্গোপসৃষ্টেন মরুতা সর্বদেহিনাম্।
পাপানি নাশয়ন্ শ্রীমান্ দয়ালুর্ভক্তভাবনঃ ॥ )
রথে গমন করার সময় ভগবান তাঁর অঙ্গে স্পর্শ করা বায়ু স্পর্শ করিয়ে সকল জীবের সমস্ত পাপ বিনাশ করেন। (৩৩/৯৩
রথযাত্রার সময় শ্রীকৃষ্ণের প্রীতিকর সমস্ত কীর্তন-নর্তন-জয়ধ্বনিও অনন্তফলপ্রদ। মূলত এসময় সকল প্রকার সেবাই অনন্ত মহিমা সম্পন্ন। কারণ যদিও জগন্নাথ সবসময়ই তাঁর বিশাল বিশাল চোখ দ্বারা ভক্তদের প্রতি তাঁর অপ্রাকৃত দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন, তথাপি রথের সময় তিনি আরো অধিক করুণা প্রকাশিত করেন।

তে বৈ জয়ন্তি পাপানি ত্রিবিধানি ন সংশয়ঃ॥ 
রথযাত্রাকালে কেউ যদি কেবল জয়ধ্বনিও দেয়, সেও ত্রিবিধ পাপকে জয় করে।৩৩/৬
লয়তালানভিজ্ঞোহপি গীতমাধুর্যবর্জিতঃ।
নর্তন কুরুত্বে বাপি গায়ত্ব নরোত্তম।
বৈষ্ণবোত্তমসংসর্গাৎ মুক্তি প্রাপ্নোত্যসংশয়শ্ ॥ 
কেউ যদি লয়-তাল ছাড়া সঙ্গীতমাধুর্যহীন ভাবেও জগন্নাথের সম্মুখে নৃত্য-কীর্তন করে, সেও সাধু বৈষ্ণবের কৃপায় জড়বন্ধন থেকে মুক্তিলাভ করবার অধিকার লাভ করে। ৩৩/৬৯

রথযাত্রার সময় যেহেতু, যৎকিঞ্চিৎ কুরুতে কর্ম তত্তদক্ষয়মশ্নুতে ॥ (৩৩/৮৭)-“এই সময় ভগবানের উদ্দেশ্যে করা সামান্য কিছুও অক্ষয় ফলপ্রদ হয়।” তাই আমাদের কর্তব্য আরো বেশি করে দীনবন্ধু শ্রীজগন্নাথের সেবায় নিযুক্ত হওয়া। যার সুযোগও রসানন্দী শ্রীজগন্নাথ আমাদের দিয়েছেন। যাতে আমরা তাঁর এবং তাঁর ভক্তদের সেবার মাধ্যমে আরো বিশেষ কৃপালাভ করতে পারি।

তস্মিনকালে দ্বিজশ্রেষ্ঠা যে পশ্যন্তি জনার্দনম্।
পূজয়ন্তি যথাশক্তি ন তে সংসারজং শ্রমম্ ॥
হে দ্বিজশ্রেষ্ঠগণ! ঐ সময় যারা জগন্নাথকে অবলোকন ও যথাশক্তি অর্চনা করেন, সে সকল মানবগণকে আর সংসারে পতিত হতে হয় না। (৩৩/১০২)
কৃষ্ণস্য পুরতো যো বৈ পুষ্পবৃষ্টিং প্রকুর্বতে।
তে বৈ মনোরথান্ সর্বান্ প্রাপ্নুবন্তি মনোগতান ॥ 
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সম্মুখে যারা পুষ্পবর্ষণ করেন, তাদের মনোগত সর্ব অভীষ্ট প্রাপ্তি হয়। (৩৩/৭৫)
উপায়ানি নানা বৈ ভক্ষ্যভোজ্যানি চৈব হি।
সমর্পয়ন্তি দেবায় তৎপ্রীত্যৈ বা দ্বিজন্মনে।
তেষামক্ষয়পূণ্যানি সর্বকাম প্রদানি চ ॥ 
যেসব মানব এ সময়ে নানা প্রকার উপঢৌকন এবং বহুবিধ ভক্ষ্য-ভোজ্য জগন্নাথদেবকে বা তাঁর প্রীতির উদ্দেশ্যে কোনো ব্রাহ্মণকে সমর্পণ করেন, তাদের অক্ষয়পূণ্য ও সর্বাভিষ্ট লাভ হয়। ৩৩/৮৮

ভক্তগণ জানেন পতিতপাবন জগন্নাথের দৃষ্টিপথের সমস্ত বস্তুই পরম পবিত্রতা প্রাপ্ত হয়। তাই জগন্নাথের রথের সম্মুখস্থ পথ যদি পঙ্কিলও হয়, তথাপি তারা সেখানেই প্রণতি নিবেদন করেন। এর ফলে তারা বিশেষ কৃপাও লাভ করেন-
হরেরগ্রেসয়া যে ভৈ পশ্যন্তস্তমুখাম্বুজম্।
পদে নমস্তশ্চ পঙ্কধুলিপ্লুতাঙ্গকাঃ ॥
বিহায় পাপকবচমভেদ্যং জন্মকোটিভিঃ।
ক্ষণাৎ বিমুক্তিপদভাক্ যাতি বিষ্ণোঃ পরং পদম্ ॥ 
যারা হরির অগ্রে গিয়ে পদে পদে তাঁর মুখপদ্ম অবলোকন ও প্রণাম করে রথের পঙ্কধূলিতে পরিপ্লুতাঙ্গ হয়, তাদের কোটি কোটি জন্মের দুর্ভেদ্য পাপকবচ উন্মুক্ত হয়ে সর্বপ্রকার যজ্ঞ, সর্বতীর্থে ¯œান ও সর্ববিধ দানের ফল লাভ করে এবং বিষ্ণুর পরম পদ লাভের যোগ্যতা প্রাপ্ত হয়। (৩৩/৮৯-৯০)
তত্র যে প্রণিপাতাং কুর্বতে সমস্তমলহারিণি।
অন্যাদিব্যূঢ় পঙ্কাংস্তে হিত্বা মোক্ষবাপ্নুয়ঃ ॥
গবাং কোটিপ্রদানস্য কন্যানামযুতস্য চ।
বাজিমেধ সহ¯্রস্য ফলং প্রাপ্নোত্যসংশয়ম্ ॥ 
যদি কেউ ভক্তিসহকারে রথের যাত্রাপথের কাঁদাময় পথেই ভগবানকে প্রণতি নিবেদন করে, তিনি কেবল জড়বন্ধন থেকে মুক্তিই নয় বরং কোটি গোদান, দশহাজার কন্যাদান এবং সহস্র অশ্বমেধ যজ্ঞ ফলও প্রাপ্ত হন। (৩৩/৬২-৬৩)

রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করার মহিমা স্বর্গের দেবতারাও সম্যকভাবে জানতে পারেন না। তাই তারা রথযাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য লালায়িত থাকেন। মূলত, যত্রাগত্য দিবো দেবাঃ স্বর্গং যান্ত্যধিকারিণঃ।
কিং বচমি তস্য মাহাত্ম্যমুৎসবস্য মুরদ্বিষঃ ॥(৩৩/৫৭)
এই উৎসবে যোগদান করার মহিমা আর কি বলব? এমনকি এই মহাবেদী মহোৎসবে অংশগ্রহণ করার ফলেই স্বর্গের দেবতাগণ পুনরায় স্বর্গে বাস করার অধিকার প্রাপ্ত হন। 
আর যারা রথে অংশগ্রহণ করেন, তারাও দেবতাদের দ্বারা সম্মান প্রাপ্ত হন। যেমন,
অনুগচ্ছতি কৃষ্ণং যে যাত্রা কৌতুহলাদপি।
অনুব্রজন্তি নিত্যং তান্ দেবাঃ শত্রুপুরুগমাঃ ॥ 
কেউ যদি ভক্তি ছাড়াই কেবল কৌতুকবশত রথারূঢ় কৃষ্ণের অনুগমন করেন, ইন্দ্রাদি দেবগণও প্রতিনিয়ত তার অনুগমন করেন। (৩৩/৬৪)

আর যারা শ্রীজগন্নাথের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রথে অংশগ্রহণ করেন, তারা তাহলে কতটা সৌভাগ্যবান! যেহেতু রথে অংশগ্রহণকারী সকলেই ভগবান জগন্নাথের অপ্রাকৃত করুণার ভাগী হন, তাই আমাদের উচিত তাদের সকলকেই সম্মানজ্ঞাপন করা।
রথযাত্রার ন্যায় উল্টোরথেরও মহিমা অপরিমেয়। কারণ রথতো জগন্নাথ শুরু করেছিলেন যেন এতে অংশগ্রহণকারী সকলেই ব্রহ্মা-শিবাদি সমস্ত দেবতাদের বন্দিত শ্রীজগন্নাথের করুণা লাভ করতে পারেন। তাই উভয় রথের মহিমাই অপ্রাকৃত।

উত্তরাভিমুখান্ দৃষ্ট¦া লভন্তে যাদৃশফলম্।
দক্ষিণাভিমুখান্ দেবান্ যে পশ্যন্তি রথস্থিতান্।
প্রাপ্নুবন্তি মহাযোগফলং পূর্বোদিতং ধ্রুবং ॥ 
রথের সময় ভগবানকে দর্শন করলে যে ফললাভ হয়, উল্টোরথের সময় ভগবানকে দর্শন করলেও সেই রকম ফল প্রাপ্তি হয়। (৩৫/১৩)
মজার ব্যপার হচ্ছে কেবলমাত্র রথের ছায়া স্পর্শ করলেও শ্রীজগন্নাথের অপ্রাকৃত কৃপালাভ হয়।
রথচ্ছায়াং সমাক্রম্য ব্রহ্মহত্যাং ব্যপোহতি।
তদ্রেণুসংসক্তবপুস্ত্রিবিধাং পাপসংহতিম্ ।
নাশয়েৎ স্বর্গগঙ্গায়াং ¯œানজং ফলমাপ্লুয়াৎ ॥ 
রথের ছায়া স্পর্শ করলেই ব্রহ্মহত্যার পাপ নাশ হয়। রথের রেণু গায়ে লাগলে ত্রিবিধ পাপপুঞ্জ নাশ হয়। সেই সঙ্গে আকাশগঙ্গায় ¯œানের ফলও প্রাপ্তি হয়। (৩৩/৬০)
মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ হচ্ছেন প্রমথপতিনা-গীতচরিত, অর্থাৎ প্রমথপতি শিবও সবসময় তাঁর স্তুতি গান করার জন্য উৎসুক হয়ে থাকেন। আমাদের কর্তব্য হচ্ছে রথে অংশগ্রহণ করে শ্রীজগন্নাথের কৃপালাভের প্রয়াস করা।
কারয়িত্বাথবা দৃষ্ট¦া যন্নরো নাবসীদতি ॥ ৩৫/২৬
কেউ যদি ভগবান ও ভক্তের প্রীতার্থে এই উৎসব আয়োজন করেন কিংবা দর্শনও করেন, তাকে আর এই জড়সংসারে আগমন করতে হয়না।
যদিও রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করার ফলে জগন্নাথের কৃপায় যেকেউই নানা জাগতিক সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেন, তথাপি ভক্তগণ কেবল যাদবপতি শ্রীজগন্নাথের শ্রীচরণে অহৈতুকী ভক্তি লাভ করারর জন্যই রথে অংশগ্রহণ করেন।
তাই, আসুন শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্যলাভের জন্য পরমপ্রভু জগন্নাথদেবের নিকট প্রার্থনা করি-
জগন্নাথ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।
(সংকলনে : মাধুর্য্য দাস)

0 Comments