-->

শুদ্ধ সাত্ত্বিক জীবন ও চারটি বিধি নিষেধ

hksamacar
শ্রীমদ্ভাগবদ্গীতায় (৯/৩৪) ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চার প্রকার পরম ধর্মের কথা বলেছেন:
১) মন্মনা ভব- সব সময় শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ ও লীলা স্মরণ করতে হবে।
২) মদ্ভক্ত- শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত হতে হবে।
৩) মদ্যাজী- সর্বদা শ্রীকৃষ্ণের পূজা-অর্চনা করতে হবে।
৪) মাং নমস্কুরু- সব সময় শ্রীকৃষ্ণকে প্রণাম করতে হবে।

শ্রীমদ্ভাগবতে শুকদেব গোস্বামী চার প্রকার চরম অধর্ম বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন :
দ্যুতং পানং স্ত্রীয়ঃ সূনা যত্র অধর্মশ্চতুর্বিধঃ। (ভাগবত ১/১৭/৩৮)
১) দ্যুতং- তাস, পাশা, জুয়া, লটারি, শেয়ার মার্কেট, চিট ফা- ইত্যাদি বর্জন করতে হবে।
২) পানং- চা, পান, বিড়ি, সিগারেট, গাঁজা, চরস, ভাং, খ.ঝ.উ. ইত্যাদি সমস্ত প্রকার নেশা বর্জন করতে হবে।
৩) স্ত্রীয়ঃ- অবৈধ যৌন জীবন বর্জন করতে হবে।
৪) সূনাঃ- মাছ ও মাংস জাতীয় খাবার বর্জন করতে হবে।

প্রথম চারটি ইতিবাচক এবং দ্বিতীয় চারটি হচ্ছে নেতিবাচক। চারখানা ইতিবাচক পরম ধর্ম যত বেশি পরিপক্ক হবে, চারখানা চরম অধর্ম তত বেশি দূরে পালাবে। ইতিবাচক পরম ধর্মগুলি ঠিকঠাকভাবে পালিত হচ্ছে, তা প্রমাণ করা জন্য নেতিবাচক চরম অধর্মগুলি বজর্নের বিধান দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ কেউ যদি এই চারটি চরম অর্ধম ত্যাগ করতে অক্ষম হয় তাহলে বুুঝতে হবে যে, সে চারটি পরম ধর্ম সঠিক এবং পর্যাপ্তভাবে পালন করছে না। তাই আমাদের প্রথমে চারটি পরম ধর্মের অনুশীলনে বেশি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। এই ধর্মগুলি পালন করতে করতে ব্যক্তি যখন অধর্মগুলি বর্জন করতে সামর্থ্য অর্জন করে, তখন সে দীক্ষা লাভের যোগ্যতা অর্জন করে। এবার দেখা যাক, চারটি পরম ধর্ম কিভাবে আমরা পালন করতে পারি-
প্রথম ধর্ম হচ্ছে মন্মনা ভব- সব সময় কৃষ্ণের কথা চিন্তা কর। চিন্তাই সমস্ত আচরণের মূল। মায়াচিন্তা থেকে মায়িক আচরণ এবং কৃষ্ণচিন্তা থেকে দিব্য আচরণ ব্যক্তির মধ্যে প্রকাশিত হবে। জীবাত্মা যে চুরাশি লক্ষ প্রকার দেহের ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করে এর মূলে একশ ভাগই হচ্ছে জীবের চিন্তা। চিন্ময় চিন্তা থেকে পাবে জীব চিন্ময় দেহ। মন্মনা ভব অনুশীলন করার প্রথম উপায় হচ্ছে মনোযোগ দিয়ে প্রতিদিন গীতা, ভাগবত, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত ইত্যাদি ভক্তিমূলক গ্রন্থ পাঠ করা। বিশেষ করে ইস্কনের প্রতিষ্ঠাতা-আচার্য শ্রীল প্রভুপাদের হৃদয়স্পর্শী গ্রন্থগুলি অবশ্যই পাঠ করতে হবে। এই সব গ্রন্থগুলির ব্যাখ্যা বৈষ্ণবদের শ্রীমুখ থেকে শ্রবণ করতে হবে।

মন্মনা ভব অনুশীলনের আরেকটি শক্তিশালী উপায় হচ্ছে প্রতিনিয়ত হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করা। শাস্ত্রে বলা হয়েছে-
উচ্চৈর্জপন্ শ্রোতৃন্ পুনাতি চ
(শ্রীনারদীয় পুরাণে প্রহ্লাদ বাক্য) অর্থাৎ উচ্চস্বরে জপ করলে জপকারী ব্যক্তি নিজেকে পবিত্র করার পাশাপাশি শ্রোতাকেও পবিত্র করেন।
তাই “শতগুণাধিক উচ্চৈর্জপন্” অর্থাৎ উচ্চস্বরে জপ করলে শতগুণ বেশী ফল লাভ হয়। আবার, এই উচ্চস্বরে জপের থেকে সমবেতভাবে ষোল নাম বত্রিশ অক্ষরের সংকীর্তন আরও বেশি ফলপ্রসূ। তাই,
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে ॥
এই মহামন্ত্রের সংকীর্র্তনকেই কলিযুগের যুগধর্ম বলে সর্বশাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেমাঞ্জন দাস

1 মন্তব্য