শ্রীশ্রী নৃসিংহ কবচম্ - বাংলা অনুবাদ সহ

শ্রীশ্রীনৃসিংহ কবচম্


শ্রীনারদ উবাচ 

ইন্দ্রাদিদেববৃন্দেশ! তাতেশ্বর! জগৎপতে!

মহাবিষ্ণোসিংহস্য কবচং ব্রুহি মে প্রভো!

যস্য প্রপঠনাদ্ বিদ্বান্ ত্রৈলোক্য-বিজয়ী ভবেৎ ॥১॥

শৃণু নারদ! বক্ষ্যামি পুত্রশ্রেষ্ঠ! তপোধন!

কবচং নরসিংহস্য ত্রৈলোক্য-বিজয়াভিধম্ ॥২॥

যস্য প্রপঠনাদ্বাগ্মী ত্রৈলোক্য-বিজয়ী ভবেৎ।

স্রষ্টাহং জগতাং বৎস! পঠনাদ্বারণাদ্ যতঃ ॥৩॥

লক্ষ্মীর্জগত্রয়ং পাতি সংহর্ত্তা চ মহেশ্বরঃ।

পঠনাদ্ধারণাদ্দেবা বভূবুশ্চ দিগীশ্বরাঃ ॥৪॥

ব্রহ্মমন্ত্রময়ং বক্ষ্যে ভূতাদি-বিনিবারকম্।

যস্য প্রসাদাদ্দুর্বাস্ত্রৈলোক্য-বিজয়ী মুনিঃ।

পঠনাদ্ধারণাদ্ যস্য শাস্তা চ ক্রোধভেরযঃ ॥৫॥

ত্রৈলোক্য-বিজয়স্যাস্য কবচস্য প্রজাপতিঃ।

ঋষিশ্ছন্দশ্চ গায়ত্রী নৃসিংহো দেবতা বিভুঃ ॥৬॥

ক্ষ্রৌং বীজং মে শিরঃ পাতুঃ চন্দ্রবর্ণো মহামনুঃ।

উগ্রং বীরং মহাবিষ্ণুং জ্বলন্তং সর্ব্বতোমুখম্ ॥৭॥

নৃসিংহং ভীষণং ভদ্রং মৃর্ত্যুমৃত্যুং নমাম্যহম্ । 

দ্বাত্রিংশদক্ষরো মন্ত্রো মন্ত্ররাজঃ সুরদ্রুমঃ ॥৮॥

কণ্ঠং পাতু ধ্রুব ক্ষ্রেীং হৃদ্ভগবতে চক্ষুষী মম ।

নরসিংহায় চ জ্বালামালিনে পাতু মস্তকম্ ॥৯॥

দীপ্তদংষ্ট্রায় চ তথাগ্নিনেত্রায় চ নাসিকাম্। 

সর্ব্বরক্ষোঘ্নায় সর্ব্বভূত-বিনাশনায় চ ॥১০॥

সর্ব্বজ্বর-বিনাশায় দহ দহ পচ দ্বয়ম্। 

রক্ষ রক্ষ সর্ব্বমন্ত্র স্বাহা পাতু মুখং মম ॥১১॥

তারাদি-রামচন্দ্রায় নমঃ পায়াদ্গুদং মম। 

ক্লীং পায়াৎ পাণিযুগ্মঞ্চ তারং নমঃ পদং ততঃ। 

নারায়ণায় পার্শ্বঞ্চ আং হ্রীং ক্লৌং ক্ষ্রৌং চ হুং ফট্ ॥১২॥

ষড়ক্ষরঃ কটিং পাতু ওঁ নমো ভগবতে পদম্ । 

বাসুদেবায় চ পৃষ্ঠং ক্লীং কৃষ্ণায় ঊরুদ্বয়ম্ ॥১৩॥

ক্লীং কৃষ্ণায় সদা পাতু জানুনী চ মনূত্তমঃ। 

ক্লীং গ্লৌং ক্লীং শ্যামলাঙ্গায় নমঃ পায়াৎ পদদ্বয়ম্ ॥১৪॥

ক্ষ্রৌং নরসিংহায় ক্ষ্রৌঞ্চ সর্ব্বাঙ্গং মে সদাবতু ॥ ১৫

ইতি তে কথিতং বৎস সর্ব্বমন্ত্রৌঘবিগ্রহম্ । 

তব স্নেহান্ময়াখ্যাতং প্রবক্তব্যং ন কস্যচিৎ ॥ ১৬

গুরুপূজাং বিধায়াথ গৃহ্নীয়াৎ কবচং ততঃ । 

সর্ব্বপুণ্যযুতো ভূত্বা সর্ব্বসিদ্ধিযুতো ভবেৎ ॥১৭॥

শতমষ্টোত্তরঞ্চৈব পুরশ্চর্য্যাবিধিঃ স্মৃতঃ। 

হবনাদীন্ দশাংশেন কৃত্বা সাধক-সত্তমঃ ॥১৮॥

ততস্তু সিদ্ধকবচঃ পুণ্যাত্মা মদনোপমঃ। 

স্পর্দ্ধামুদ্ধূয় ভবনে লক্ষ্মীবাণী বসেৎ ততঃ ॥১৯॥

পুষ্পাঞ্জল্যষ্টকং দত্ত্বা মূলেনৈব পঠেৎ সকৃৎ। 

অপি বর্ষ-সহস্রাণাং পূজায়াঃ ফলমাপ্নুয়াৎ ॥২০॥

ভূর্জ্জে বিলিখ্য গুটিকাং স্বর্ণস্থাং ধারয়েদ্ যদি। 

কণ্ঠে বা দক্ষিণে বাহৌ নরসিংহো ভবেৎ স্বয়ম্ ॥২১॥

যোষিদ্ বামভূজে চৈব পুরুষো দক্ষিণে করে। 

বিভৃয়াৎ কবচং পূণ্যং সর্ব্বসিদ্ধিযুতো ভবেৎ ॥২২॥

কাকবন্ধ্যা চ যা নারী মৃতবৎসা চ যা ভবেৎ। 

জন্মবন্ধ্যা নষ্টপুত্রা বহুপুত্রবতী ভবেৎ ॥২৩॥

কবচস্য প্রসাদেন জীবন্মুক্তো ভবেন্নরঃ। 

ত্রৈলোক্যং ক্ষোভয়ত্যেব ত্রৈলোক্য-বিজয়ী ভবেৎ ॥২৪॥

ভূত-প্রেত-পিশাচাশ্চ রাক্ষসা দানবাশ্চ যে। 

তং দৃষ্টা প্রপলায়ন্তে দেশাদ্দেশান্তরং ধ্রুবম্ ॥২৫॥

যস্মিন্ গেহে চ কবচং গ্রামে বা যদি তিষ্ঠতি। 

তং দেশন্তু পরিত্যজ্য প্রযান্তি চাতিদূরতঃ ॥২৬॥

- শ্রীনারদ মুনি বললেন, হে ইন্দ্রাদিদেবগণের ঈশ্বর! হে জগৎপতি! হে প্রভু! হে প্রিয় পিতা, কৃপাপূর্বক আমার নিকট ভগবান মহাবিষ্ণু শ্রীনৃসিংহদেবের সেই কবচ মন্ত্র বর্ণনা করুন যা উচ্চৈঃস্বরে পাঠ করে বিদ্বান লোক ত্রৈলোক্য বিজয়ী হতে পারেন। শ্রী ব্রহ্মা বললেন, হে পুত্র শ্রেষ্ঠ! হে তপোধন! আমি তোমাকে ত্রৈলোক্য বিজয় নামক শ্রীনৃসিংহ কবচ বর্ণনা করছি। তুমি শ্রবণ কর। হে প্রিয় পুত্র! এ কবচ পাঠ করে বাগ্মী ব্যক্তি ত্রৈলোক্য বিজয়ী হন। আমি নিজে এই কবচ পাঠ ও ধারণ ধ্যান করে জগৎ স্রষ্টা হয়েছি। এ কবচ পাঠ ও ধারণ ধ্যান করেই শ্রীমতি লক্ষ্মীদেবী ত্রিজগতের পালনকর্ত্রী হয়েছেন, মহেশ্বর সংহারকর্তা হয়েছেন এবং অন্য দেবতাগণ বিভিন্ন দিকসমূহের নিয়ন্ত্রক হয়েছেন। 

আমি সমস্ত বৈদিক মন্ত্র সমন্বিত এই কবচ বর্ণনা করব যা ভূতাদি বিদূরিত করে। এ কবচের কৃপায় দুবার্সা মুনি ত্রিলোক জয়ী হয়েছেন। এ কবচ পাঠ ও ধারণ করেই তিনি শাস্তা ও ক্রোধ-ভৈরব হয়েছেন। ত্রিলোক বিজয় প্রদাতা এ কবচে, প্রজাপতি ঋষি, গায়ত্রী ছন্দ এবং সর্বশক্তিমূলক নৃসিংহদেব অধিষ্ঠাতা দেবতা। ক্ষ্রৌং-এই মহামন্ত্র, যাঁর বর্ণনাসমূহ চন্দ্রের মতো, আমার শিরোদেশ রক্ষা করুন। আমি সর্ব শক্তিমান, ভীষণ, ভদ্র, উগ্রবীর, অগ্নির ন্যায় প্রজ্জ্বলিত, সর্বত্র বিস্তৃত মুখ, মৃত্যুর মৃত্যুস্বরূপ মহাবিষ্ণু শ্রীনৃসিংহ দেবকে প্রণাম করি। এই বত্রিশ অক্ষরবিশিষ্ট মন্ত্র হচ্ছে মন্ত্ররাজ, মন্ত্রসমূহের সুরদ্রুম বৃক্ষ (কল্পবৃক্ষ)। ‘ক্ষ্রৌং’ শব্দ আমার কণ্ঠদেশ রক্ষা করুন। ‘ভগবতে’ শব্দ আমার হৃদদেশ রক্ষা করুন, ‘নরসিংহায়’ শব্দ আমার চক্ষুদ্বয় রক্ষা করুন, “জ্বালামালিনে” শব্দ আমার মস্তক রক্ষা করুন।

‘দীপ্তদ্রংষ্ট্রায়’, ‘অগ্নিনেত্রায়’, ‘সর্বরক্ষোঘ্নায়’, ‘সর্বভূত-বিনাশনায়’ শব্দসমূহ আমার নাসিকা রক্ষা করুন। ‘সর্বজ্বর-বিনাশায়’, ‘দহ দহ পচ দ্বয়ম্’, ‘রক্ষ রক্ষ স্বাহা’ ও সমগ্র মন্ত্র আমার মুখম-ল রক্ষা করুন। ‘ওঁ নমঃ রামচন্দ্রায়’ ভগবান রামচন্দ্র আমার গুহ্যদেশ ও পাণিযুগল রক্ষা করুন। ‘ওঁ নমঃ নারায়ণায়’ ভগবান নারায়ণ আমার পদদ্বয় ও পার্শ্বদেশ রক্ষা করুন। গুহ্যদেশ রক্ষার জন্য প্রথমে আচমন করে পবিত্র হয়ে- ‘ওঁ নমঃ রামচন্দ্রায়ঃ’ জপ করা উচিত। পুনরায় আচমন করে বীজমন্ত্র ‘ক্লীম্’ দুই হাতে ধ্যান করা উচিত। এরপর ‘ওঁ নমঃ’ পদদ্বয়ে ধ্যান করে ‘নারায়ণায়’ ও বীজমন্ত্র ‘আং হ্রীং ক্লৌং, ক্ষ্রৌং চ হুম ফট্’ ধ্যান করা উচিত।

কটিদেশ রক্ষার জন্য ‘ষড়াক্ষর ওঁ’ সেস্থানে ধ্যান করা উচিত। ‘ওঁ নমঃ ভগবতে’ পাদদেশে, ‘বাসুদেব’ পৃষ্ঠদেশে ও ‘ক্লীম্ কৃষ্ণায়’ উরুদ্বয়ে ধ্যান করা উচিত। হাঁটুতে “ক্লীম কৃষ্ণায়” ধ্যান করে মনে করা উচিত যে, ভগবান তাঁর বিশ্বশ্রেষ্ঠ অনূত্তম রূপে সর্বদা আমাকে রক্ষা করুন। এরপর আচমন করে পবিত্র হয়ে ‘ক্লীং গ্লৌং ক্লীং শ্যামলাঙ্গায় নমঃ’ পাদদ্বয়ে ধ্যান করা উচিত। সম্পূর্ণ শরীর রক্ষার জন্য ‘ক্ষ্রৌং নরসিংহায় ক্ষ্রৌং’ সর্বাঙ্গে ধ্যান করা উচিত। 

ভগবান ব্রহ্মা আরও বললেন, হে প্রিয়পুত্র, সকল মন্ত্রের সমন্বিত শক্তির মূর্তবিগ্রহ আমি তোমার নিকট বর্ণনা করলাম। তোমার প্রতি স্নেহপরবশ হয়ে অন্য সকলের নিকট অবর্ণনীয় এই কথা তোমার নিকট ব্যাখ্যা করলাম। গুরুপূজা করে কোনো ব্যক্তি এ কবচ ধারণ করতে পারেন। সর্বপুণ্যযুক্ত হয়ে সেই ব্যক্তি সর্বসিদ্ধি লাভ করতে পারেন। একশত আটবার পুরশ্চর্যা বিধি সম্পন্ন করলে যে ফল লাভ হয় তা উত্তম ভক্ত কর্তৃক এই কবচ পাঠ ফলের একদশমাংশ মাত্র। এ কবচ পাঠ করে যিনি পরিশুদ্ধ হয়েছেন, জাগতিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা ত্যাগ করেছেন, সে পুণ্যাত্মার গৃহে সৌভাগ্যের অধিষ্ঠাত্রী শ্রীমতী লক্ষ্মীদেবী ও বাগদেবী শ্রীসরস্বতী নিবাস করেন। মাত্র আটবার পুষ্পাঞ্জলি ও একবার কবচ পাঠ করে কোনো ব্যক্তি সহস্রবর্ষ অর্চনের ফল লাভ করেন। স্ত্রীলোক এ কবচ বাম হস্তে ও পুরুষগণ এটি দক্ষিণ হস্তে ধারণ করতে পারেন। নিশ্চিতভাবে এ দিব্য কবচ সর্বসিদ্ধি প্রদান করেন। যদি কেউ এ কবচ গাছের পাতা বা বাকলে লিখেন এবং স্বর্ণের কবচ সহযোগে কণ্ঠে বা দক্ষিণ হস্তে ধারণ করেন, তবে স্বয়ং নৃসিংহদেব সঙ্গে থাকেন। এতে কাকবন্ধ্যা, মৃতবৎসা, জন্মবন্ধ্যা বা নষ্টপুত্রা নারী বহুপুত্রবতী হন। এ কবচের কৃপায় মানুষগণ জীবন্মুক্ত হয়, তিনি এ সমগ্র বিশ্বকে ক্ষোভিত করতে পারেন, ত্রিলোক বিজয়ী হতে পারেন। এটি দর্শন করে ভূত, প্রেত, পিশাচ, রাক্ষস ও দানবগণ ভয়ে দেশ-দেশান্তরে তৎক্ষণাৎ পলায়ন করে। যে গৃহে এমনকি যে গ্রামে এ কবচ অবস্থান করেন, দূরাত্মাসমূহ সে স্থান পরিত্যাগ করে দ্রুত চলে যায়। 


nrisimha-kavacham Download

মন্তব্য

যোগাযোগ ফর্ম

পাঠান

অনুসরণকারী