-->

শ্রীজগন্নাথাষ্টকম -জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে

শ্রীজগন্নাথ প্রণাম
নীলাচল নিবাসায় নিত্যায় পরমাত্মনে।
বলভদ্র সুভদ্রাভ্যাং জগন্নাথায়তে নমঃ ॥
আমি শ্রীবলদেব ও শ্রীমতি সুভদ্রাদেবীর সঙ্গে বিরাজিত শ্রীজগন্নাথদেবকে আমার প্রণতি নিবেদন করি। তিনি পুরুষোত্তম ক্ষেত্র শ্রীনীলাচল ধামে নিবাস করেন। তিনি নিত্য এবং সর্বভূতান্তর্যামী পরমাত্মা।
শ্রীবলদেব প্রণাম
নমস্তে হলধৃগ্রাম নমস্তে মুষলায়ুধ
নমস্তে রেবতীকান্ত নমস্তে ভক্তবৎসল ॥
হে বলরাম! হে হলধারী! আপনাকে প্রণাম। হে মুষলধারী! আপনাকে প্রণাম। হে রেবতীকান্ত! হে ভক্তবৎসল! আপনাকে প্রণাম।
শ্রীসুভদ্রা প্রণাম
দেবী ত্বং বিষ্ণুমায়াপি মোহয়ন্তী চরাচরম্ ।
হৃৎ-পদ্মাসন সংস্থাসি বিষ্ণুভাবানুসারিণী ॥
হে সুভদ্রাদেবী! আপনি ভগবান শ্রীবিষ্ণুর মায়াশক্তি। আপনি সচর এবং অচর জীবনিচয়কে মোহিত করে থাকেন। আপনি হৃৎপদ্মে বাস করে শ্রীবিষ্ণু ভাবানুসারে কর্ম করে থাকেন।
শ্রীসুদর্শন প্রণাম
নমস্তে নিত্য বিলাসদ্ বৈষ্ণবাস্ত্র নিকেতন।
অবার্যবীর্য্যম্ যদ্রুপং বিষ্ণুস্তৎ প্রণমাম্যহম ॥
বিষ্ণুভক্তদের সর্বত্র সুরক্ষাপ্রদানকারী নিত্য জ্যোতির্ময় সুদর্শনচক্রকে আমি প্রণাম জানাই। অবারিত শক্তির অধিকারী শ্রীবিষ্ণু অস্ত্রকে আমার প্রণতি নিবেদন করি।
jagannathastakam

শ্রীজগন্নাথাষ্টকম
কদাচিৎ কালিন্দীতট-বিপিন-সঙ্গীত-তরলো
মুদাভীরী-নারী-বদন-কমলাস্বাদ-মধুপঃ।
রমা-শম্ভু-ব্রহ্মামরপতি-গণেশার্চিতপদো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥ ১ ॥
যিনি কখনও কখনও যমুনা তীরস্থ বনমধ্যে সঙ্গীত করতে করতে ভ্রমরের মতো আনন্দে ব্রজগোপীদের মুখারবিন্দের মধু পান করেন এবং লক্ষ্মী, শিব, ব্রহ্মা, ইন্দ্র ও গণেশ প্রমুখ দেবদেবীগণ যাঁর চরণযুগল অর্চনা করে থাকেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়নপথের পথিক হোন।

ভুজে সব্যে বেণুং শিরসি শিখিপিচ্ছং কটীতটে
দুকুলং নেত্রান্তে সহচর কটাক্ষং বিদধতে।
সদা শ্রীমদ্বৃন্দাবনে-বসতি লীলাপরিচয়ো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥ ২ ॥
যিনি বাম হস্তে বেণু, শিরে শিখিপুচ্ছ, কটিতটে পীতাম্বর ও নয়নপ্রান্তে সহচরগণের প্রতি কটাক্ষ ধারণ করে সর্বদা শ্রীবৃন্দাবনে বাস ও লীলা করছেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়নপথের পথিক হোন।

মহাম্ভোধেস্তীরে কনক-রুচিরে নীলশিখরে
বসন্ প্রাসাদান্তঃ সহজ-বলভদ্রেণ বলিনা।
সুভদ্রা-মধ্যস্থঃ সকল-সুর সেবাবসরদো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥ ৩ ॥
যিনি মহাসমুদ্রের তীরে কনকোজ্জ্বল নীলাচল শিখরে প্রাসাদাভ্যন্তরে বলিষ্ঠ সহোদর শ্রীবলদেবসহ সুভদ্রাকে মধ্যে স্থাপনপূর্বক অবস্থান করছেন এবং সমস্ত দেবগণকে যিনি স্বীয় সেবা করবার সুযোগ প্রদান করেছেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়নপথের পথিক হোন।

কৃপা-পারাবারঃ সজল-জলদ-শ্রেণিরুচিরো
রমা-বাণী-রামঃ স্ফুরদমল-পঙ্কেরুহ-মুখঃ।
সুরেন্দ্রৈরারাধ্যঃ শ্রুতিগণশিখা-গীতচরিতো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥ ৪ ॥
যিনি দয়ার সাগর, সজল জলধরের মতো যাঁর অঙ্গকান্তি, যিনি লক্ষ্মী-সরস্বতীর সঙ্গে বিহার করছেন, যাঁর বদনম-ল অমল কমলের ন্যায় শোভা পাচ্ছে, যিনি সমস্ত দেবগণের আরাধ্য-ধন এবং বেদ, পুরাণ তন্ত্রাদি শাস্ত্রসমূহ যাঁর চরিত্র গান করছেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়নপথের পথিক হোন।

রথারূঢ়ো গচ্ছন্ পথি মিলিত-ভূদেব-পটলৈঃ
স্তুতি-প্রাদুর্ভাবং প্রতিপদমুপাকর্ণ্য সদয়ঃ।
দয়াসিন্ধুর্বন্ধুঃ সকল জগতাং সিন্ধু-সুতয়ো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥ ৫ ॥
রথে আরোহণ করে গমন করতে থাকলে পথিমধ্যে ব্রাহ্মণগণ যাঁর স্তব করতে থাকেন এবং সেই স্তব শ্রবণ করে যিনি পদে পদে প্রসন্ন হন, যিনি দয়ার সাগর, যিনি নিখিল জগতের বন্ধু এবং যিনি সমুদ্রের প্রতি সদয় হয়ে তদুপকূলে বিরাজ করছেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়নপথের পথিক হোন।

পরব্রহ্মাপীড়ঃ কুবলয়-দলোৎফুল্ল-নয়নো
নিবাসী নীলাদ্রৌ নিহিত চরণোহনন্ত শিরসি।
রসানন্দী রাধা-সরস-বপুরালিঙ্গন-সুখো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥ ৬ ॥
যিনি পরমার্চনীয় পরব্রহ্ম, যাঁর নেত্রযুগল নীল কমলদলের ন্যায় উৎফুল্ল, যিনি নীলাচলে অবস্থান করছেন, যিনি অনন্তের শিরে পদার্পণ করে রয়েছেন, যিনি প্রেমানন্দময় এবং যিনি শ্রীরাধিকার রসময় দেহালিঙ্গনসুখে সুখী, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়নপথের পথিক হোন।

ন বৈ যাচেহহং রাজ্যং ন চ কনক-মাণিক্য-বিভবং
ন যাচেহহং রম্যাং সকল-জন-কাম্যাং বরবধূম্।
সদা কালে কালে প্রমথপতিনা গীত চরিতো
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥ ৭ ॥
আমি রাজ্য চাই না, স্বর্ণ-মাণিক্যাদি বৈভব চাই না, সর্বজনের স্পৃহণীয় সুন্দরী নারীও চাই না, কেবল এ-ই চাই যে, প্রমথনাথ মহাদেব সর্বক্ষণ যাঁর চরিত্র গান করেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়নপথের পথিক হোন।
হর ত্বং সংসারং দ্রুততরমসারং সুরপতে!
হর ত্বং পাপানাং বিততিমপরাং যাদবপতে!
অহো দীনেহনাথে নিহিতচরণো নিশ্চিতমিদং
জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে ॥ ৮ ॥
হে সুরপতে! অতি শীঘ্র আমাকে এ অসার সংসার থেকে উদ্ধার কর, হে যদুপতে! আমার দুঃসহ পাপভার বিমোচন কর। অহো! দীন ও অনাথ ব্যক্তিগণকে যিনি নিশ্চিতরূপে নিজ শ্রীচরণ সমর্পণ করে থাকেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়নপথের পথিক হোন।

জগন্নাথাষ্টকং পুণ্যং যঃ পঠেৎ প্রযতং শুচিঃ।
সর্বপাপ-বিশুদ্ধাত্মা বিষ্ণুলোকং স গচ্ছতি ॥ ৯ ॥
যিনি সংযত ও শুদ্ধচিত্তে এই পরম পবিত্র জগন্নাথাষ্টক পাঠ করেন, তাঁর আত্মা সবরকম পাপ থেকে বিমুক্ত হয়ে থাকে এবং তিনি বিষ্ণুলোকে অর্থাৎ বৈকুণ্ঠধামে গমন করেন।

0 মন্তব্য