-->

পুঠিয়ার রাজকন্যা শ্রীগঙ্গামাতা গোস্বামিনী

gangamata

পরিচয়
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পুরীর অন্যতম প্রিয় ভক্ত ছিলেন শ্রীসার্বভৌম ভট্টাচার্য মহাশয়। তাঁর গৃহেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীমদ্ভাগবতের ‘আত্মারাম’ শ্লোকের আঠারো প্রকার ব্যাখ্যা করে তাকে অভিভ‚ত করেছিলেন এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাকে তাঁর ষড়ভুজ শ্যামসুন্দর রূপও দেখিয়েছিলেন। তাঁর গৃহে প্রায়ই মহাপ্রভু প্রসাদ পেতে আসতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে মহাপ্রভুর লীলাবিজরিত এ স্থানটি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। তখন শ্রীমন্মহাপ্রভুই তাঁর এক নিজজনকে এ জগতে প্রেরণ করেন। তিনি হলেন শ্রীগঙ্গামাতা গোস্বামিনী।
শ্রীগঙ্গামাতা গোস্বামিনী ছিলেন গৌড়ীয় বৈষ্ণব ইতিহাসের এক মহিয়সী বৈষ্ণবী, একজন অসামান্য সাধিকাও বটে। তাঁর সাধনজীবনে তিনি অসাধারণ ত্যাগ-তিতিক্ষা, দৈন্য, অধ্যবসায়, পাণ্ডিত্য ও সুতীক্ষ্ণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।
আবির্ভাব
বর্তমান বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার অন্তর্গত তৎকালীন পুঠিয়ার রাজা শ্রীনরেশ নারায়ণের কন্যারূপে শ্রীগঙ্গামাতা গোস্বামিনী ১৬০১ খ্রিস্টাব্দে আবিভর্‚ত হন। তাঁর বাল্যনাম ছিল শচীদেবী। তিনি ছিলেন রাজার একমাত্র সন্তান। শৈশবকাল থেকেই শচীদেবী সংসারের প্রতি উদাসীন ছিলেন এবং ভগবৎসেবায় একান্ত নিষ্ঠাপরায়ণা ছিলেন। তাঁর মন সর্বদা নিবিষ্ট থাকত শ্রীশ্রীমদনগোপালের চরণপদ্মে। অতি অল্প বয়সেই তিনি ব্যাকরণ, অলঙ্কারাদি বিবিধ শাস্ত্রে বুৎপত্তি লাভ করেন। সংসারের প্রতি বৈরাগ্য দেখে রাজা নরেশ নারায়ণ শচীদেবীর বিবাহ দেয়ার কথা ভাবেন। উপযুক্ত পাত্রের সন্ধানও করতে থাকেন। কোনোভাবে একদিন শচীদেবী তা জানতে পারলে তিনি পিতাকে সরাসরি জানিয়ে দেন যে, কোনো মরণশীল পুরুষের সাথে যেন কখনো তাঁর বিবাহ দেওয়া না হয়। তিনি পিতাকে এও জানান যে, তিনি তাঁর জীবন-প্রাণ কৃষ্ণচরণে সমর্পণ করেছেন। রাজা নরেশ নারায়ণ ও তাঁর পত্নী বেশিদিন এ জগতে ছিলেন না। অল্পদিনের মধ্যে তাদের লোকান্তর হলে শচীদেবী রাজসুখ-বৈভব পরিত্যাগ করে তীর্থভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন। প্রথমে শ্রীক্ষেত্র পুরীধামে উপনীত হন। জগন্নাথের চরণপ্রান্তে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত করার পর তাঁর মনে শ্রীব্রজমণ্ডল দর্শনের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়। তারপর শ্রীবৃন্দাবন ধামে পৌঁছে তিনি জীবনের পরম লক্ষ্য সাধনের পথ খুঁজে পান।
দীক্ষাগ্রহণ
এ সময় বৃন্দাবনের শ্রীগোবিন্দদেবের সেবাধ্যক্ষ শ্রীল হরিদাস পণ্ডিত গোস্বামী বৈষ্ণবগণের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর একান্ত পার্ষদ ছিলেন শ্রীগদাধর পণ্ডিত। শ্রীল হরিদাস পণ্ডিত ছিলেন শ্রীগদাধর পণ্ডিত গোস্বামী প্রভুর শিষ্য শ্রীল অনন্তাচার্যের শিষ্য। তাঁর কথা শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীপাদ শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে (৮/৫৯-৬৫) বর্ণনা করেছেন
পণ্ডিত গোস্বামীর শিষ্য অনন্ত আচার্য।
কৃষ্ণ-প্রেমময় তনু, উদার, সর্ব আর্য \
তাঁহার অনন্তগুণ কে করু প্রকাশ?
তাঁ’র প্রিয় শিষ্য ইহা- পণ্ডিত হরিদাস \
চৈতন্য-নিত্যানন্দে তাঁ’র পরম বিশ্বাস।
চৈতন্যচরিতে তাঁ’র পরম উল্লাস \
বৈষ্ণবের গুণগ্রাহী, না দেখয়ে দোষ।
কায়োমনোবাক্যে করে বৈষ্ণবে সন্তোষ \
নিরন্তর শুনে তেঁহো চৈতন্যমঙ্গল।
তাঁহার প্রসাদে শুনেন বৈষ্ণবসকল \
কথায় সভা উজ্জ্বল করে যেন পূর্ণচন্দ্র।
নিজ গুণামৃতে বাড়ায় বৈষ্ণব আনন্দ \
তেঁহো অতি কৃপা করি আজ্ঞা দিল মোরে।
গৌরাঙ্গের শেষলীলা বর্ণিবার তরে \
 শ্রীল হরিদাস পণ্ডিত গোস্বামী শ্রীধাম বৃন্দাবনে বৈষ্ণবসভায় নিয়মিত শ্রীচৈতন্যভাগবত পাঠ করতেন এবং তিনিই শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামীপাদকে শ্রীমন্মহাপ্রভুর অন্ত্যলীলা বর্ণনা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
তীর্থভ্রমণকালে পুঠিয়ার রাজকন্যা শ্রীশচীদেবী শ্রীধাম বৃন্দাবনের শ্রীহরিদাস পণ্ডিতের কাছে কৃপা প্রার্থনা করেন। শ্রীল হরিদাস পণ্ডিত গোস্বামী শ্রীশচীদেবীর পক্ষে কঠোর বৈরাগ্যপূর্ণ ভজন সম্ভব হবে না ভেবে তাঁকে গৃহে ফিরে যেতে বলেন। ভক্তিজীবনের পথ কোটি কণ্টকময়, তার মতো অপরিমেয় বিত্তবৈভবে লালিত একজন রাজকন্যা কীভাবে এ পথে চলবেন? কিন্তু শচীদেবীও এত সহজে ছাড়ার পাত্রী ছিলেন না। শ্রীল হরিদাস পণ্ডিতজি তাঁকে পুনরায় পরীক্ষার জন্য সম্ভ্রম পরিত্যাগ করে বৃন্দাবনের গৃহে গৃহে মাধুকরী ভিক্ষা করার আদেশ দিলেন। শ্রীশচীদেবী সমস্ত দেহস্মৃতি ভুলে ব্রজের কুঞ্জে কুঞ্জে ভিক্ষার ছলে শ্রীকৃষ্ণ অনুসন্ধানের আবেশে আবিষ্ট হলেন। ব্রজবাসীগণ তাঁর দেহের দিব্য তেজ দেখে বুঝতে পারলেন যে, শচীদেবী সাধারণ কেউ নন। তাঁর কঠোর বৈরাগ্য দেখে বৈষ্ণবগণ চমৎকৃত হতেন। দেহসুখ ভুলে শচীদেবী নিয়মিত যমুনা স্নান, মন্দির মার্জন, পরিক্রমা, ভাগবত কথা শ্রবণ ও মাধুকরীর ভিক্ষা করে জীবন নির্বাহ করতে লাগলেন। তা দেখে শ্রীল হরিদাস গোস্বামী শ্রীশচীদেবীর প্রতি প্রীত হয়ে অশেষ আশীর্বাদ দান করলেন। চৈত্রমাসের শুক্লা ত্রয়োদশী তিথি, বুধবার শ্রীগোবিন্দজি মন্দিরে তিনি শচীদেবীকে অষ্টাদশাক্ষর মন্ত্রে দীক্ষা প্রদান করলেন। শ্রীশচীদেবী ভক্তিসহকারে এক
বছর গুরুসেবা করলেন। কিছুকাল পরে পণ্ডিত গোস্বামীর অপর এক শিষ্যা শ্রীলক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীও সেখানে আগমন করলেন। তিনি প্রত্যহ একটানা তিনলক্ষ হরিনাম করতেন এবং রাগভক্তিতে যুগলসেবা করতেন। শ্রীল হরিদাস পÐিত শচীমাতার দায়িত্ব লক্ষ্মীপ্রিয়াকে সমর্পণ করলেন এবং শ্রীরাধাকুণ্ডে  গিয়ে ভজন করতে বললেন। শ্রীগুরুদেবের আজ্ঞা প্রাপ্ত হয়ে লক্ষ্মীপ্রিয়া ও শচীদেবী শ্রীরাধাকুণ্ডে  বাস করে নিত্য গোবর্ধন পরিক্রমা করতে লাগলেন।

লুপ্ততীর্থ উদ্ধার
 এভাবে বেশ কয়েক বছর শচীদেবী একান্তভাবে শ্রীরাধাকুণ্ডে ভজন করার পর ভজনপ্রৌঢ়া হলে শ্রীহরিদাস পণ্ডিত তাঁকে শ্রীক্ষেত্রে গমনের আজ্ঞা দিয়ে বললেন- “সার্বভৌম ভট্টাচার্যের অঙ্গনসেবা লুপ্ত হতে চলেছে। তুমি শ্রীপুরুষোত্তম ক্ষেত্রে যাও। শ্রীগৌরনিত্যানন্দের বাণী আপামর জীবের কাছে প্রচার করো।” শচীদেবী শ্রীমন্মহাপ্রভুর লীলাস্থল শ্রীসার্বভৌম ভট্টাচার্যের ভবনে নিত্যসেবা প্রকাশের গুরু-আজ্ঞা শিরোধার্য করে শ্রীধাম বৃন্দাবন থেকে শ্রীক্ষেত্র পুরীধামে আগমন করেন। তিনি শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের মন্দিরের কাছে শ্রীসার্বভৌম ভট্টাচার্যের বাসভবনের সন্ধান পেলেন। ভট্টাচার্য মহাশয়ের শ্রীগৃহ তখন লুপ্তপ্রায়। একটি জরাজীর্ণ মন্দিরে সার্বভৌম ভট্টাচার্যের পূজিত শ্রীশ্রীরাধা-দামোদর শিলা ছাড়া তেমন কিছুই সেখানে ছিল না।
শ্রীশচীদেবী গৃহে অবস্থানকালেই শাস্ত্রপাঠে অনুরক্ত ছিলেন। শ্রীরাধাকুণ্ডে অবস্থানকালেও তিনি বৈষ্ণবগণের সাথে নিত্য শ্রীমদ্ভাগবত আলোচনা করতেন। শ্রীক্ষেত্রেও নিত্য শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখা করতেন। হরিভক্তিপরায়ণা শচীদেবীর কাছে পুরীবাসীগণ শ্রীমদ্ভাগবতের অপূর্ব ব্যাখ্যা শ্রবণ করে এতই মুগ্ধ হতেন যে, তারা বাড়িতে গিয়েও সারাদিন তা আলোচনা করতেন। শ্রীশচীদেবীর ভাগবত পাঠের যশ এতই বিস্তৃত হলো যে, তা তৎকালীন পুরীর রাজা শ্রীমুকুন্দদেবের কাছেও পৌঁছালো। তিনিও একদিন শচীদেবীর কাছে এসে শ্রীমদ্ভাগবতের ব্যাখ্যা শ্রবণ করে এত মুগ্ধ হলেন যে, তিনিও নিয়মিত ভাগবত শ্রবণে আসতে লাগলেন। একদিন তিনি স্বপ্নে শ্বেতগঙ্গার কাছের সেই স্থানটি শচীদেবীকে প্রদানের জন্য শ্রীজগন্নাথের আদেশ প্রাপ্ত হলেন। পরদিন সকালেই তিনি শচীদেবীর কাছে বার্তা প্রেরণ করে সেই স্থানটি তাঁকে লিখে দেয়ার প্রস্তাব করলেন। শচীদেবী লুপ্ততীর্থ
উদ্ধারের জন্য গুরুপ্রদত্ত আদেশ স্মরণ করে রাজার কাছ থেকে জায়গাটি গ্রহণ করলেন এবং ভিক্ষা করে তিনি সেখানে বিগ্রহসেবা চালিয়ে যেতে লাগলেন। গঙ্গামাতা নামপ্রাপ্তি  একদিন মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশীতে মহাবারুণী স্নান উপলক্ষ্যে অনেককে গঙ্গার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে দেখলে শচীদেবীরও গঙ্গা স্নানের বাসনা হলো। কিন্তু
গুরুদেবের নির্দেশ ছিল শ্রীপুরুষোত্তম ক্ষেত্রেই তাঁকে অবস্থান করতে হবে। তাই তিনি আর গঙ্গায় গেলেন না। সেদিন স্বপ্নে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব তাঁকে আজ্ঞা দিলেন, “যেদিন গঙ্গা স্নানের তিথি উপস্থিত হবে, তুমি শ্বেতগঙ্গায় স্নান করবে। গঙ্গাদেবী তোমার সঙ্গপ্রার্থিনী হয়ে শ্বেতগঙ্গায় উপস্থিত হবেন।” স্বপ্নে আদেশ পেয়ে তিনি সকলের অজ্ঞাতে মধ্যরাতে শ্বেতগঙ্গায় অবগাহন করলেন এবং তৎক্ষণাৎ গঙ্গাদেবী সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁকে স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যেতে লাগলেন। শ্রীজগন্নাথদেবের চরণ নিঃসৃতা গঙ্গার পুত বারিধারা শচীদেবীকে শ্রীমন্দিরের অভ্যন্তরে নিয়ে গেল। সেখানে শ্রীক্ষেত্রবাসী সকলকে সানন্দে স্নান করতে দেখে জগন্নাথদেব
নিজেও আনন্দে ্ স্নান করলেন। ভক্তগণের আনন্দকোলাহলে দ্বার-রক্ষীদের নিদ্রাভঙ্গ হলো। তারা পাণ্ডাদের জাগালেন। পাÐারা রাজাকে কোলাহলের কথা অবগত করলে, রাজা শ্রীমন্দিরের দ্বার খোলার আজ্ঞা করলেন। মন্দির খোলামাত্র গঙ্গাদেবীসহ সবাই অন্তর্হিত হলেন এবং সকলেই তখন কেবল শচীদেবীকে সেখানে একাকী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন।  তখন অধিকাংশ পাণ্ডার মনে সন্দেহ হলো যে, শচীদেবী শ্রীজগন্নাথের ধনসম্পদ অপহরণ করার জন্য মন্দিরের দ্বার বন্ধের আগেই মন্দিরে
লুকিয়ে ছিলেন। তখন রাজা তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করলেন। এদিকে মহাভাগবতের প্রতি এমন অপরাধের ফলে পাÐাগণ নানা রোগ-শোকে আক্রান্ত হতে লাগলেন। তখন শ্রীশ্রীজগন্নাথদেব রাজাকে স্বপ্নে বললেন, “ত্রয়োদশীর রাতে যাঁকে মন্দিরে দেখেছ, তিনি আমার প্রতি অনুরক্তা পরমভাগবত। আমি তাঁর ¯œান করবার জন্য নিজ শ্রীচরণ থেকে গঙ্গাকে নিঃসৃত করে তাঁকে শ্রীমন্দিরে নিয়ে আসি। যদি তুমি মঙ্গল চাও, তবে সমস্ত পাÐাদের সঙ্গে নিয়ে সেই মহাভাগবতের শ্রীচরণে উপনীত হয়ে অপরাধের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করো এবং তাঁর কাছ থেকে মন্ত্রদীক্ষা গ্রহণ করো; নতুবা আমি তোমাদের মতো বৈষ্ণব-অপরাধীর সেবা গ্রহণ করব না।”  রাজা মুকুন্দদেব তখন পাÐাদের ডেকে জগন্নাথদেবের স্বপ্নাদেশের কথা জানিয়ে সবাইকে নিয়ে শ্রীশচীদেবীর শ্রীচরণে ক্ষমাভিক্ষা করলেন। তাঁরা সবাই শচীদেবীর কাছে মন্ত্রদীক্ষা প্রার্থনা করলে শচীদেবী অত্যন্ত দৈন্য সহকারে তাদের বললেন, “আপনারা জগন্নাথের সেবক, অতএব পরমপূজ্য।” একথা বলে তাদের এ প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিলেন। পরে অবশ্য শ্রীজগন্নাথদেব স্বয়ং তাঁকে আদেশ করলে তিনি তাদের দীক্ষা প্রদান করেন। সেদিন থেকে শ্রীশচীদেবী শ্রীগঙ্গামাতা গোস্বামিনী নামে বিখ্যাত হলেন।  রাজা মুকুন্দদেব গঙ্গামাতাকে গুরুদক্ষিণা প্রদান করতে চাইলে তিনি বললেন, “শ্রীকৃষ্ণচরণে তোমার ভক্তি লাভ হোক, আমি এইমাত্র ভিক্ষা করি; আমি অন্যকোনো দক্ষিণা গ্রহণের অধিকারিণী নই।” রাজার বারংবার কাতর প্রার্থনায় অবশেষে শ্রীগঙ্গামাতা বৈষ্ণবসেবার জন্য দুই ভাণ্ড মহাপ্রসাদ, একভাণ্ড  তরিতরকারি, একটি প্রসাদী বস্ত্র ও দুই পন কড়ি (১৬০ পয়সা) প্রতি মধ্যাহ্ণকালীন ধূপের পর মঠে প্রেরণের অনুমতি দিলেন। এখনো একইভাবে জগন্নাথের রাজভোগ প্রসাদ নিয়মিত শ্রীগঙ্গামাতা মঠে প্রেরিত হয় এবং শ্রীগঙ্গামাতার সমাধিতে অর্পিত হয়।  মহীধর শর্মা নামে এক ব্রাহ্মণ পণ্ডিত শ্বেতগঙ্গার তীরে পিতৃপুরুষের নামে তর্পণাদি করতে এসে শ্রীগঙ্গামাতার মহিমা শ্রবণ করে তাঁর শ্রীচরণ দর্শন করতে যান। তাঁর কাছে অপূর্ব ভাগবতকথা শ্রবণ করে তিনি আপ্লুত হন এবং সেদিনই তিনি শ্রীগঙ্গামাতার চরণে আত্মসমর্পণ করেন। তারপর ব্রাহ্মণ মহীধর শর্মা গঞ্জাম জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে মহাপ্রভুর বাণী প্রচারে নিযুক্ত হন।

0 মন্তব্য